Principle’s Message

01১৯৯৫ সালের কথা। চারঘাট উপজেলা সদরের কতিপয় শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিবর্গ উপজেলায় নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। কিন্তু কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত জমি কোথায় পাওয়া যাবে, কে দিবে? এমন প্রশ্ন উদ্যোক্তাদের ভাবিয়ে তোলে। সকলের দৃষ্টি যায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রমেকার অব্যবহৃত পাট গোডাউনের দিকে। উক্ত গোডাউনে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অবশেষে উদ্যোক্তারা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি (বর্তমানে কলেজ যেখানে প্রতিষ্ঠিত) কলেজের জন্য দান করার প্রস্তাব দেন। আমি প্রস্তাবটি আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করি। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলেই একমত হলে জমিটি কলেজের নামে দান করা হয় এবং সেখানেই উপজেলার প্রথম মহিলা কলেজ হিসেবে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথম সভাতেই আমাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আমি, নব নিযুক্ত শিক্ষক কর্মচারী, ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে থাকে। অল্পদিনের মধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী পাঠদানের অনুমতিসহ একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ভালো হওয়ায় কলেজটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায়ে বিএ এবং বিএসএস খোলা হয়। ডিগ্রি পর্যায়ে পরীক্ষার ফলাফল খুব ভলো হওয়ায় এলাকার মানুষের কাছে কলেজটি প্রশংসিত হয়।
কলেজটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন যাঁরা ছাত্রী দিয়ে, শ্রম দিয়ে, অর্থ দিয়ে এবং পরামর্শ দিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটি /গর্ভনিং বডির সম্মানিত সভাপতি এবং সদস্য হিসেবে যাঁরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কলেজে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীর আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং এলাকাবাসির সহযোগিতায় কলেজটি উত্তোরোত্তর আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করি।

মোঃ জহুরুল ইসলাম
অধ্যক্ষ
চারঘাট মহিলা কলেজ